[X]
১৯ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার

কোকা-কোলার পণ্য তৈরী-বোতলজাতকরণ কারখানা এখন ভালুকায়

print
নিজস্ব প্রতিবেদক
দ্যাবিডিনিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা: কোকা-কোলা কোম্পানির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল বেভারেজেস প্রাইভেট লিমিটেড ময়মনসিংহের ভালুকায় আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বটলিং প্ল্যান্ট বা বোতলজাতকরণ কারখানা উদ্বোধন করেছে। এ দেশে কোম্পানির ৭৪ মিলিয়ন বা ৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগের অংশ হিসেবে কারখানাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এতে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাটসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, কোম্পানির গুরূত্বপূর্ণ পার্টনার, গ্রাহক ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কোকা-কোলা কোম্পানি নতুন এই কারখানা স্থাপনে ৬০ মিলিয়ন বা ৬ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। আর বাকি ১৪ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করা হবে অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং পণ্য বিপণন ও বিপণন সংক্রান্ত কার্যক্রমে। ভালুকায় এই কারখানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবসায়ের অগ্রগতি ও স্থানীয় সমাজ বা জনগণের টেকসই উন্নয়নে কোকা-কোলার অব্যাহত প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন ঘটল।

এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয় সদ্য বিদায়ী ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে। প্রাথমিকভাবে এই কারখানায় দুই ধরনের পণ্য উৎপাদন হবে। পণ্যগুলো হচ্ছে কোকা-কোলা, ফানটা ও স্প্রাইট এবং কিনলে পানি। এতে সরাসরি দেড় শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তবে পরিবহন, ম্যানুফেকচারিং বা উৎপাদন ও প্যাকেজিং সাপ্লাইসহ গোটা ভ্যালু চেইন প্রক্রিয়ায় পরোক্ষভাবে আরো ১ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, “বর্তমান বিশ্বে কোকা-কোলা একটি জনপ্রিয় ব্রান্ড। আজকের এই মহোৎসবে আমি সরকারের পক্ষ থেকে কোকা-কোলা কর্তৃপক্ষকে তাদের এই নতুন ফ্যাক্টরি উদ্বোধন উপলক্ষে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি বরাবরই কোকা-কোলার ভক্ত এবং তা শুরু হয় ১৯৬৩/৬৪ সাল থেকে যখন আমি বিদেশে ছিলাম। কোকা-কোলার এই নতুন ফ্যাক্টরি স্থাপনের মাধ্যমে সারা দেশে আরো বিস্তরভাবে কোকা-কোলা মানুষের আরো চাহিদা মেটাতে পারবে। এই মহৎ উদ্যোগকে আমি স্বাগত ও সাধুবাদ জানাই।”

প্রধানমন্ত্রীর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, “আমি ধন্যবাদ জনাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে যার নিজস্ব হস্তক্ষেপে বাংলাদেশ সরকারের সকল নিয়মনীতি মেনে দ্রুতার সাথে কোকা-কোলার নিজস্ব প্রথম ফ্যাক্টরি শুরু করার অনুমোদন দিতে পেরেছি। যেহেতু কোকা-কোলা মানসম্পন্ন পণ্য তৈরীতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তাই আমার বিশ্বাস তাদের এই মহান উদ্যোগ তাদের আরও দ্রুততার সহিত সাফল্য বয়ে আনবে।”

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাননীয়া রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাট বলেন, ‘‘আজকের এই কারখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি গর্ব বোধ করছি। কোকা-কোলার এই বিনিয়োগের ফলে বাংলাদেশের জনগণের সামনে ভালোভাবে জীবনযাপন ও জীবনযাপনের মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হলো। এই কারখানায় উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন লোকেদের পাশাপাশি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়া ব্যক্তিরাও কাজের সুযোগ পাবেন। কোকা-কোলা এই বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রমাণ করল যে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যত বিনির্মাণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে তারাও অংশীদার ও সারথী হতে চায়।”

কোকা-কোলা কোম্পানির প্যাসিফিক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট জন মারফি বলেন, “কোকা-কোলা কোম্পানি বাংলাদেশে এই বিনিয়োগকে হাল্কাভাবে নেয়নি। আমরা নানা কারণেই বাংলাদেশে এই কারখানা স্থাপন ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরূত্বপূর্ণ কারণ হলো ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য বাংলাদেশের সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণের ইতিবাচক মনোভাব এবং উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন জনবলের সহজলভ্যতা। বাংলাদেশের বর্তমান ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারায় একটি অপরিহার্য অংশ হতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”

কোকা-কোলা কোম্পানির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কোম্পানির বটলিং ইনভেস্টমেন্টস গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ইরিয়াল ফিন্যান বলেন, “আজকেই এই বিনিয়োগ প্রকল্পের মহতী উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাংলাদেশে আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে এক অসাধারণ মুহূর্ত। আমরা আশা করি, এখানকার জনগণ এখন দেখতে পাচ্ছেন এ দেশের প্রতি আমাদের বিশ্বাস কতটা সুদৃঢ় এবং সমাজ ও আমাদের ব্যবসায়ের উজ্জ্বল ভবিষ্যত তৈরিতে আমরা কী রকম প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করি।”

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলংকায় কোকা-কোলার বটলিং ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ এবং হিন্দুস্তান কোকা-কোলা বেভারেজেস প্রাইভেট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টি. কৃষ্ণকুমার বলেন, “নতুন এই প্রকল্প উদ্বোধনের ফলে আমাদের ব্যবসায় সম্প্রসারণের পাশাপাশি এ দেশের গ্রাহকদের জন্য ব্যাপক পরিসরে পণ্য উদ্ভাবন এবং বাজারে উচ্চ মানসম্পন্ন ও সুস্বাদু পণ্য বিপণনের ক্ষেত্র তৈরি হল। আমরা সফল ভবিষ্যত গড়ে তোলায় বিশ্বাস করি, যাতে আমাদের গ্রাহক ও স্থানীয় সমাজের জন্য আমরা অন্যদের তুলনায় ইতিবাচক ও অর্থপূর্ণ পার্থক্য গড়ে দেয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে পারি।”

কোকা-কোলা কোম্পানির ভারত ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভেঙ্কটেশ কিনি বলেন, “কনজ্যুমার প্রডাক্টস বা ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর জন্য বাংলাদেশ হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বিকাশমান, প্রবৃদ্ধিশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। সে অনুযায়ী কোকা-কোলা কোম্পানির নতুন এই প্ল্যান্ট বা কারখানা আগামী দশকগুলোতে বাংলাদেশের মানুষের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং নিত্যনতুন পণ্য উৎপাদনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশের অগ্রগতি অর্জনের অভিযাত্রার অংশ হতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”

বাংলাদেশ সময়: ১২১০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৯, ২০১৭

মতামত

প্রতিদিনের সর্বশেষ সংবাদ পেতে

আপনার ই-মেইল দিন

Delivered by FeedBurner

আর্কাইভ

জুন ২০১৭
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০