[X]
০৬ ডিসেম্বর ২০১৬, মঙ্গলবার

যে ‍মুহূর্ত বদলে দিল বাংলাদেশি ঝাড়ুদারের জীবন

print

‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না…’।

না, পারে না। এমন অনেক মানুষই আছে যাদের কাছে মানুষ কোনো সহানুভূতি প্রত্যাশা করতে পারে না। বরং তাদের কাছ থেকে পায় কেবল ভর্ৎসনা, দুর্ব্যবহার ও উপহাস। কারণ সেসব মানুষের মন ও মগজ পশুত্বে বোঝাই। কণ্ঠশিল্পী ভুপেন হাজারিকার আর্তি তাদের কান অবধি কখনোই পৌঁছায় না।

তবে এর বিপরীত চিত্রও আছে। কিছু মানুষ আছে যারা সত্যিকারের মানুষ। যাদের মন অন্যের জন্য ভালবাসা, সহানুভূতিতে টইটুম্বর। সুযোগ পেলেই তারা মানুষের পাশে দাঁড়ায়, সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়।

এমন দুই ধরনের মানুষেরই দেখা পেলেন সৌদি আরবে ঝাড়ুদারের কাজ করা বাংলাদেশি নাজের আল ইসলাম আবদুল করিম (৬৫)।

অনেক বছর ধরে পরিবার-পরিজন ছেড়ে সৌদিতে কাজ করছেন আবদুল করিম। পরিবারের অভাব মেটাতে সেখানে ঝাড়ুদারের কাজ করেন। একটি পৌরসভার রাস্তার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করাই তার কাজ। মাসিক বেতন মাত্র ৭০০ রিয়াল।

কিছু দিন আগের ঘটনা। তিনি রাস্তা ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। হঠাৎ তার চোখ আটকে যায় পাশের এক গয়নার দোকানে। তিনি সতৃষ্ণ নয়নে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকেন সোনার গয়নার দিকে। হয়তো তার কল্পনায় ভেসে উঠেছিল ছিল, গয়নাতে তার মেয়েটাকে কেমন দেখাবে সেই দৃশ্য। ব্যস, এতটুকুই। মাত্র দুই/তিন মিনিটি তিনি সেখানে ছিলেন। তারপর চলে যান।

তবে সোনার দোকানে তাকিয়ে থাকার সময় পেছন থেকে তার অজান্তেই তার ছবি তোলেন এক ব্যক্তি। তারপর সেই ছবি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে দেন। ছবির ক্যাপশনে সেই ঝাড়ুদারকে উপহাস করে লেখেন, ‘এই লোকটির কেবল আবর্জনার দিকেই তাকানো উচিত।’

ঝাড়ুদারকে উপহাস করে পোস্ট করা সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হয়ে যায়। সেই ‘অমানুষ’ ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর সমালোচনা করে মানবতার স্লোগান নিয়ে এগিয়ে আসেন অনেকেই। তার মধ্যে অন্যতম আবদুল্লাহ আল কাতানি। ‘ইনসানিয়াত’ (যার অর্থ ‘মানবতাবাদ’) নামের তার একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট আছে। সেখানে ঝাড়ুদারের ছবি পোস্ট করে আল কাতানি সাহায্য করবেন জানিয়ে তাকে খুঁজে বের করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।

কাতানির টুইট সাড়ে ৬ হাজার বার শেয়ার হয়। অবশেষে সেই ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারীর পোস্ট করা ছবিটির সূত্র ধরেই আবদুল করিমকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়। সেই ছবিতে গয়নার দোকানের জানালার কাঁচে আশপাশের এলাকা কিছুটা প্রতিফলিত হয়। সেটার মাধ্যমেই আবদুল করিমকে খুঁজে পাওয়া যায়। এরপর থেকেই সৌদি জনগণসহ সবার ভালবাসায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি।

আল কাতানি জানান, বিভিন্ন লোক অর্থ থেকে শুরু করে চাল, মধু, বাংলাদেশে ফেরার টিকিট, মোবাইল সবকিছু উপহার হিসেবে পাঠাচ্ছেন আবদুল করিমকে। ইতিমধ্যে আবদুল করিম একটি আইফোন৭ ও একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি মোবাইল পেয়েছেন।

কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী সৌদি নাগরিক আবদুল করিমকে উপহার পাঠানো অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। এদের মধ্যে একজন তাকে ২০০০ রিয়াল দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

সৌদির একটি খেলাধুলাবিষয়ক চ্যানেলের এক নির্বাহী কর্মকর্তা যোগাযোগমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাটে কয়েকটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, আবদুল করিম একটি সোনার গয়নাবাক্স পছন্দ করছেন। তিনি ওই নতুন উপহারসহ আবদুল করিমের ছবিও পোস্ট করেন।

সেই নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘আবদুল করিমকে খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা ও তার প্রতি মানুষের দয়া ও উদারতায় আমি অভিভূত।’

আবদুল করিম বলেন, ‘আমি রাস্তায় ঝাড়ু দিচ্ছিলাম। হঠাৎ আমার চোখ একটি গয়নার দোকানে আটকে যায়। তবে ওই ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী যে আমার ছবি তুলেছেন সেটা আমি জানতামই না।’

আবদুল করিম আরো বলেন, ‘মানুষের কাছ থেকে উপহার পেয়ে আমি খুবই খুশি এবং যারা এগুলো পাঠিয়েছেন বা পাঠাচ্ছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। সত্যিই পৃথিবীতে অনেক ভাল মানুষও আছে।

মতামত

প্রতিদিনের সর্বশেষ সংবাদ পেতে

আপনার ই-মেইল দিন

Delivered by FeedBurner

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০১৭
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০