[X]
০৩ জুলাই ২০১৬, রবিবার

গরিব দেশে সন্ত্রাস হানায় মোমবাতি জ্বালায় না পশ্চিম

print

goঅনলাইন ডেস্ক: হতে পারে জঙ্গি হামলা। হতে পারে বহু নিরপরাধের মৃত্যু। হতে পারে আইএস যোগ। তবু প্যারিস বা ব্রাসেলস হয়ে উঠবে না ঢাকা। প্রথামাফিক প্রথম বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রপ্রধানদের শোকজ্ঞাপনেই শেষ হবে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই’। অরল্যান্ডোর হত্যালীলা নিয়ে সরব হয় গোটা বিশ্ব। ইউরো চলাকালীন প্যারিসে জঙ্গিহানায় হাড় হিম হয়ে যায় ইউরোপের। দোসর হয় আমেরিকা। পিছিয়ে থাকি না আমরা— তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিও। কিন্তু ঢাকা নিয়ে কতটা বিচলিত প্রথম বিশ্ব ?

ইস্তানবুলে দিন কয়েক আগেই হয়েছে বিমানবন্দরে জঙ্গিহানা। বেশ ক’টা দিন পশ্চিমি দুনিয়ার খবরের কাগজের প্রথম পাতা জুড়ে ছিল ইস্তানবুল। ঢাকার ‘দুর্ভাগ্য’-র খবরের আদৌ কি অতটা ‘সৌভাগ্য’ হবে ? মনে হয় না। বড়জোর একদিন। আসলে ঢাকার গুলশান চত্বরটি অভিজাত হতে পারে— বাংলাদেশ তো নয়। তৃতীয় বিশ্বের গরিব দেশের জঙ্গিহানা আর যাই হোক ‘কুলীন’ নয়। তাই ব্রিটেনের টিউব স্টেশনে বা প্যারিসের ক্যাফেতে জঙ্গি হামলার ধারে কাছে আসে না ঢাকার রেস্তোরা।

তাই মোমবাতি মিছিল বা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন— এমন কিছুই হবে না ইউরোপ বা আমেরিকায়। সন্ত্রাসের থাবায় আহত দেশটির জাতীয় পতাকার রঙে রাঙানো হবে না ফেসবুক প্রোফাইল। বা ফেসবুকে দেখা যাবে না কোনও ‘সেফটি মার্কিং’। এক সঙ্গে ২০ জনের বেশি জিম্মি মারা যাওয়ায় বা জিম্মি করায় তাও কিছুটা নজর এসেছে ঢাকা। গত একবছরে যেভাবে একের পর এক মুক্তমনা, সংখ্যালঘু মানুষ মরেছে বাংলাদেশে তা নিয়ে কারও কোনও হেলদোল ছিল না। আজও নেই। শোনা যাচ্ছে, নিহতদের মধ্যে ইতালীয়র সংখ্যাই সব থেকে বেশি।

সেই প্রশ্নে ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও রেনজি বলেন, ‘এই বেদনা জানানোর ভাষা নেই। যারা এভাবে আমাদের মূল্যবোধ ও সামাজিক বিন্যাস নষ্ট করতে চাইছে, তাদের চরম শিক্ষা দিতে হবেই।’ কিন্তু রাষ্ট্রীয় শোক বা ইত্যাদি কিছু ঘোষণা হয়নি সে দেশে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাকে তো গোটা বিশ্বকেই সামিল করার কথা বলা হয় ? তা হলে এই একচোখামি কেন ? তৃতীয় বিশ্বে সন্ত্রাসবাদী হামলায় যে রক্ত ঝরে, তার লাল কি ফিকে ? না কি সন্ত্রাসের হাত থেকে প্রথম বিশ্ব বাঁচতে পারলেই বাকিটা আর সর্বজনীন থাকে না ? বড়লোক দেশগুলির বড় বড় নেতাদের এই একপেশে মনোভাব কিন্তু আখেরে তাঁদেরই বিপদ ডেকে আনবে। ঢাকার চেয়ে প্যারিস বা লন্ডন যদি বেশি ভয় ধরায়, তবে জঙ্গিদের ‘প্রথম পছন্দ’ অবশ্যই প্যারিস-লন্ডনই হবে। কারণ এখন তারা মূলত দু’টি বিষয়কে লক্ষ করে কাজ করে। প্রথমত, ধনী ও অভিজাতদের আঘাত করা ও আঁটসাটো নিরাপত্তার ভিত টলিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়া।

আসলে প্রথম বিশ্বের কাছে তৃতীয় বিশ্বের গরিব দেশগুলি কখনওই ‘ঘর’ হয়ে উঠতে পারেনি। তাই নিজের ঘরে আঁচ না পড়লে কারই বা কী আসে যায় ? শুকনো বিবৃতিতেই শেষ হয় শোক পালনের পালা। অথবা স্থান, কাল, পাত্রের হিসেবে কুলীন না হলে নজরে পড়ার সম্ভাবনাটাই বড় কমে যায়। বাংলাদেশের সন্ত্রাস নিয়ে ফেসবুকে বা টুইটারে ট্রেন্ডিং হলেও, সেভাবে আর কিছু দেখতে পাওয়া যায়নি। এখনও শোনা যায়নি নিহতদের কথা মনে রেখে কেউ বের করেছে মৌন মিছিল বা জমেছে শোকবার্তার টুকরো কাগজ। আর সে জন্যই নিরপরাধের মৃত্যুতে চোখে জল আসে না। প্রশ্ন ওঠে না। ‘হোমগ্রোন টেররিজম’-এর সংজ্ঞা বদলে যেতে থাকে ওয়াশিংটন-ঢাকার নিরিখে। যে আইএস নিধনে আমেরিকা এখন ব্রতী, সেই আইএস-ই তো আছে এই হামলার পিছনে। অবশ্য তারা বাংলাভাষী। সে জন্য কি এই আইএস-রা কমজোরি ? আর সে জন্য প্রাণের দাম কমে যায়। জ্বলে ওঠে না মোম৷ শোক রাগে বদলে গিয়ে ডাক পড়ে না বৃহত্তর আন্দোলনের। প্রশ্নরা ভিড় করে৷ উত্তর হাতড়ে বেড়াতে হয়।  -সূত্র: ইন্ডিয়াটাইমস।

মতামত

প্রতিদিনের সর্বশেষ সংবাদ পেতে

আপনার ই-মেইল দিন

Delivered by FeedBurner

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০১৭
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০