[X]
৩০ এপ্রিল ২০১৫, বৃহস্পতিবার

আটরশি পীর বনাম কোরানের পথ

print

429380_102700109855694_1504596649_nমো: আল মামুন শেখ :  ফরিদপুর শহরের নিকটস্থ আটরশী বিশ্বজাকের মঞ্জিলের প্রতিষ্ঠাতা শাহসুফি হাশমত উল্লাহ আটরশীর পীর। তিনি এনায়েতপুরের পীর শাহসূফী মোহাম্মদ ইউনুস আলী এনায়েতপুরীর মুরীদ ও খলীফা। হাশমত উল্লাহ জামালপুর জেলার শেরপুর থানার পাকুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতা শাহ আলিম উদ্দিন। হাশমত উল্লাহর বয়স যখন ৫/৬ বছর তখন তিনি নোয়াখালির মাওলানা শরাফত আলীর নিকট আরবি, ফার্সি প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেন। এতটুকুই তার পড়াশুনার ইতিহাস পাওয়া যায়।

দশ বছর বয়সের সময় তার পিতা তাকে এনায়েতপুরির পীর ইউনুস আলীর খেদমতে অর্পণ করেন। ত্রিশ বছর যাবত তিনি এনায়েতপুরি সাহেবের কাছে থাকেন। অতএব এনায়েতপুরির নির্দেশে ফরিদপুরে এসে তিনি জাকের ক্যাম্প নামে একটি ক্যাম্প স্থাপন করেন। পরবর্তী কালে এটারই নাম দেওয়া হয় “বিশ্ব জাকের মঞ্জিল”।

13173650_261340014210280_2645684854225468114_nহাসমত উল্লাহরর লিখিত একখানা বইয়ের সন্ধান পাওয়া যায়। এর নাম হল “বিশ্বজাকের মঞ্জিলের পরিচালনা পদ্ধতি”। এছাড়া বিশ্ব জাকের মঞ্জিল কর্তৃক শাহ সূফী হযরত ফরিদপুরী ছাহেবের নসিহত নামে তার বয়ান ও নসিহত সমুহের সংকলন বের করা হয়েছে ২২ খণ্ডে।

তার এসব বই এবং জাকের মঞ্জিল কর্তৃক প্রকাশিত অন্যান্য কয়েকটি বই থেকে তার ও তার অনুসারীদের আকীদা-বিশ্বাস সম্বন্ধে যা জানা যায় তা নিম্নরূপ–

576377_285638064900282_1878265982_n১। পীর সম্বন্ধে অতিরঞ্জন ধারণা তাদের একটি প্রধান বিভ্রান্তি।

যেমন-

১) আটরশি পীর বলেছেন- এনায়েতপুরী সাহেব (কুঃ) ছাহেব তিরোধানের পূর্বে আমাকে বলিয়া গিয়াছেন, “বাবা তোর ভাল ও মন্দ উভয়টাই আমার হাতে রইল। তোর কোন চিন্তা নেই।

অথচ পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন- “তুমি বলে দাও সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে। এই সম্প্রদায়ের কী হল যে, এরা কোন কথা বুঝতে পারে না।” –সুরা নিসা, আয়াত ৭৮।

উল্লেখ্য, এ শ্রেণীর লোকেরা পীরকে খোদার স্তরে পৌঁছে দিয়ে পীরের মধ্যে খোদায়ী গুন আরোপ করেছে। তাই ভালো মন্দ সম্পাদনা করার খোদায়ী গুন পীরের মধ্যে থাকাকে সাব্যস্ত করেছে। যারা আল্লাহ ও রাসুলের মধ্যে পার্থক্য না করার মত পোষণ করেন বা মানুষের মধ্যে আল্লাহর প্রবেশ করার মত পোষণ করেন বা পীর মাশায়েখকে খোদার স্তরে পৌঁছে দিয়েছেন, তারা এ বিষয় সাধারণত সর্বেশ্বরবাদ দর্শনের অপব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে এটা করে থাকেন।

পবিত্র কোরানে বলা হয়েছে- “আর কোন লোক এমনও রয়েছে যারা অন্যান্যকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে এবং তাদের প্রতি তেমনি ভালবাসা পোষণ করে, যেমন আল্লাহর প্রতি ভালবাসা হয়ে থাকে। কিন্তু যারা আল্লাহর প্রতি ঈমানদার তাদের ভালবাসা ওদের তুলনায় বহুগুণ বেশী। আর কতইনা উত্তম হত যদি এ জালেমরা পার্থিব কোন-কোন আযাব প্রত্যক্ষ করেই উপলব্ধি করে নিত যে, যাবতীয় ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য এবং আল্লাহর আযাবই সবচেয়ে কঠিনতর।” -সূরা বাক্বারাহ, আয়াত ৯৬।

faridpur jaker monjil২) পীর পরকালে মুক্তির ব্যবস্থা করে দিবে:
আটরশী পীর বলেন- “দুনিয়াতে থাকাবস্থায় তোমরা খোদা প্রাপ্তির পথে যে টুকু অগ্রসর হও না কেন, তোমাদের ছাহেবে-ছুলুফ যদি জীবৎকালে সম্পন্ন নাও হয়, তবুও ভয় নাই। মৃত্যুর পরে কবরের মধ্যে দুই পুণ্যাত্মা (অর্থাৎ রাসুল (সাঃ) এবং আপন পীর) তোমাদের প্রশিক্ষণ দিবেন। মা’রেফাতের তালিম দিবেন, ফলে হাশরের মাঠে সকলেই আল্লাহর অলী হইয়া উঠিবেন। এই কারনে বলা হয় এই তরিকায় যিনি দাখিল হন তিনি আর বঞ্চিত হন না”।

পবিত্র কোরানে বলা হয়েছে- “বল, আমি কি আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন প্রতিপালক খুঁজবো ? অথচ, তিনিই সকল কিছুর প্রতিপালক। প্রতিটি আত্মা তার নিজ কর্মের প্রতিফলের জন্য দায়ী। কেউ অন্য কারও পাপের ভার বহন করবে না। তোমাদের সর্বশেষ লক্ষ্য হচ্ছে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন। অতঃপর যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করতে তার সত্যতা সম্বন্ধে তিনি তোমাদের অবহিত করবেন।” –সূরা আন্আম, আয়াত ১৬৪।

অন্য এক আয়াতে বলা হয়েছে- “কেউ কারো পাপের ভার বহন করবে না; কারো পাপের বোঝা গুরুভার হলে সে যদি অন্যকে তা বহন করতে আহবান করে কেউ তা বহন করবে না – নিকট আত্মীয় হলেও। তুমি তো শুধু তাদেরকেই সর্তক করতে পার যারা তাদের প্রভুকে না দেখেই ভয় করে, এবং নিয়মিত নামাজকে প্রতিষ্ঠা করে। যে কেউ নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, সে তো তা করে নিজের আত্মার কল্যাণের জন্য এবং [সকলেরই শেষ] গন্তব্যস্থল হচ্ছে আল্লাহ।” –সূরা ফাতির, আয়াত ১৮।

কাজেই পীর ধরলেই মুক্তি হবে এমন ধারণা চরম গোমরাহী মূলক আকীদা। পীর তালিম দিয়ে বা কোনভাবে মুরীদের নাজাতের ব্যবস্থা করতে পারবে এ ধারণা ভ্রান্ত। কেউ নিজে আমল করে নাজাতের ব্যবস্থা না করলে কোন পীর তাকে নাজাত দিতে পারবে না।

কোরানে বলা হয়েছে, “যখন [বিচারে] সব কিছুর সিদ্বান্ত হয়ে যাবে শয়তান বলবে, আল্লাহ-ই তোমাদের সত্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমিও দিয়েছিলাম কিন্তু আমি তোমাদের প্রতি প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছি। তোমাদের আহবান করা ব্যতীত তোমাদের উপরে আমার কোন কর্তৃত্ব ছিলো না; কিন্তু তোমরা আমার আহবানে সাড়া দিয়েছ। সুতারাং আমাকে ভৎর্সনা কর না, বরং তোমাদের নিজ আত্মাকে ভৎর্সনা কর। আমি তোমাদের আর্তনাদ শুনতে পাই না, তোমরাও আমারটা শুনতে পাও না। পূর্বে তোমরা আমাকে আল্লাহর সাথে যে শরীক করেছিলে, তোমাদের সে কর্ম আমি অস্বীকার করি। পাপীদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি।” –সূরা ইব্রাহীম, আয়াত ২২।

1095042_1944495699022662_1000938546_n৩) পীর দুনিয়াতে সব ধরনের বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করতে পারেন। আটরশি পীর সাহেব বলেন, “মুর্শিদে কামেল তদীয় মুরীদ পৃথিবীর যে স্থানেই থাকুক না কেন সেই স্থানেই তাহাকে কুওতে এলাহিয়ার হেফাযতে রাখিতে পারেন। মুর্শিদে কামেলকে আল্লাহ এইরূপ ক্ষমতা দান করেন। শুধু মুরীদকেই নয় মুরীদের আত্মীয়-স্বজন, মাল সামানা, বাড়ী ঘর যাহা কিছুই খেয়াল করুক, তাহার সব কিছুই আল্লাহ তা’আলার কুওতের কেল্লায় বন্দী করিয়া দেন”।

এ ধারণা সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী ধারণা। আল্লাহপাক কারও কোন বিপদের ফয়সালা করলে কেউ তাকে উদ্ধার করতে পারবে না।

কোরআনে করীমের এক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে- “যদি আল্লাহ তোমাদের কোন অকল্যাণ ঘটান, তাহলে তা হটানোর কেউ নেই। যদি তিনি তোমার কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহ রদ করার কেউ নাই। তার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তিনি কল্যাণ দান করেন। তিনি বার বার ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” –সুরা ইউনুস, আয়াত ১০৭।

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে- “সেদিন সম্বন্ধে সর্তক কর, যেদিন নিকটবর্তী হচ্ছে, যেদিন হৃদয় কণ্ঠাগত হয়ে তাদের শ্বাসরোধ করবে। পাপীদের এমন কোন অন্তরঙ্গ বন্ধু বা সুপারিশকারী থাকবে না যার কথা গ্রাহ্য করা হবে। [আল্লাহ] চোখের প্রতারণা অবগত আছেন, এবং [মানুষের] অন্তর যা, গোপন করছে তাও জানেন।” –সূরা মুমিন, আয়াত ১৮-১৯।

পীর তার মুরীদ ও মুরীদদের আত্মীয়-স্বজনকে সব ধরনের বিপদ আপদ থেকে উদ্ধার করতে পারলে আটরশির মুরীদ ও মুরিদদের আত্মীয়-স্বজন কেন পথে ঘাটে দুর্ঘটনার স্বীকার হন? কেন তারা আততায়ীর হাতে নিহত হন? কেন তাদের বাড়ি ঘরে চুরি ডাকাতি হয়?

j৪) পরকালে মুক্তির জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহনের অবশ্যকতা নেই। আটরশি পীর বলেন- হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানগণ নিজ নিজ ধর্মের আলোকেই সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করতে পারে এবং তাহলেই কেবল বিশ্বে শান্তি আসতে পারে। (আটরশির কাফেলা সংকলনে মাহফুযুল হক, আটরশির দরবার থেকে প্রকাশিত, পৃঃ৮৯, সংস্করন-১৯৮৪)

পবিত্র কোরানে আল্লাহ ঘোষনা করেছেন, “ইসলামই আল্লাহর নিকট একমাত্র গ্রহণযোগ্য পূর্ণাঙ্গ দীন।” –সূরা আল-ইমরান, আয়াত ১৯।

পবিত্র কোরানে আল্লাহ আরো বলেছেন- “আল্লাহর কাছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম হল ইসলাম।” –সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৮৫।

10325311_707248602660209_7380390008526912508_n৫) ওরস সম্পর্কে তাদের অত্যন্ত বাড়াবাড়ি রয়েছে। আটরশি পীর এনায়েতপুরীর উদ্বৃতি দিয়ে বলেন- “ঔরস কাজা করিলে পরবর্তী এক বছরের জন্য বহু দুর্ভোগ পোহাইতে হয়। যাবতীয় পথ রুদ্ধ হয়”।

আসুন আগে জানি ওরস বলতে কি বুঝায়। ওরস এর আভিধানিক অর্থ বিবাহ, বাসর। পরিভাষায় ওরস বলতে বৎসরান্তে কোন ওলী ও বুজুর্গের মাঝারে সমবেত হয়ে ধুমধাম সহকারে ফাতেহাখানী, ঈসালে ছওয়াব, ভোজ ইত্যাদির আয়োজন করা। ওরস এর ক্ষেত্রে দুটো বিষয় পালিত হয়ে থাকে।

(১) বৎসরান্তে নির্দিষ্ট দিনে কোন ওলী ও বুজুর্গের কবর যিয়ারতে সমবেত হওয়া এবং ঈসালে ছওয়াব করা অর্থাৎ মৃত্যু-বার্ষিকী পালন করা।

(২) সংশ্লিষ্ট ওলী ও বুজুর্গের কবর দূরে হলে প্রয়োজনে সেই উদ্দেশ্যে সফর করা।

কবর যিয়ারতের জন্য কোন দিনকে নির্দিষ্ট করে সকলে সেদিনে সমবেত হওয়াকে শরী’য়াত আদৌ সমর্থন করে না। বিশেষ করে বছরান্তে এক দিনকে নির্দিষ্ট করা যাকে পরিভাষায় ওরস বলা হয় শরী’য়াতে এর কোন ভিত্তি নেই।
10590603_1534073876812671_3088539454989758952_n
ওরস ইসলামে সম্পূর্ণ বিদআত। কেননা কোন নবী করীম (সাঃ) এর মৃত্যুর দিনটিকে সাহাবীরা কখন ওরস বানায় নি। এমন কি পীর আলেমদের মৃত্যুর দিনটিকে কেউ ওরস বানায় নি। সুতরাং উনারা যে কাজগুলো করেন নি সেগুলো করা ইসলামে বিদআত।

সমস্যা হল এটা আটরশি বা অন্যান্যরা পালন করে ফায়দা লুটার জন্য। আর সেটা হল ধর্মের নামে ব্যবসা করা।

উল্লিখিত বিষয় দ্বারা আটরশির পীরের ধর্মীয় অজ্ঞতা ও ভণ্ডামী সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায়। কেননা আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন- “কেহ ইসলাম ব্যতীত [আল্লাহ্‌র ইচ্ছার নিকট আত্মসমর্পণকারী] অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করতে চাইলে, তা কখনও গ্রহণ করা হবে না। পরলোকে সে হবে ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভূক্ত।” –সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৮৫।

আরো ইরশাদ হচ্ছে, “নিশ্চয়ই যারা কুফরী করে এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে, তাদের কারো থেকে পৃথিবী পরিমাণ স্বর্ণ মুক্তিপণ হিসেবে দিলেও তা কখনো গ্রহণ করা হবে না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব এবং তাদের থাকবে না কোনো সাহায্যকারী।” –সূরা আল-ইমরান, অায়াত ৯১।

আল্লাহ আরো বলেন- “কেমন করে তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে কুফরী অবলম্বন করছ? অথচ তোমরা ছিলে নিষ্প্রাণ। অতঃপর তিনিই তোমাদেরকে প্রাণ দান করেছেন, আবার মৃত্যু দান করবেন। পুনরায় তোমাদেরকে জীবনদান করবেন। অতঃপর তারই প্রতি প্রত্যাবর্তন করবে। তিনিই সে সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু জমীনে রয়েছে সে সমস্ত। তারপর তিনি মনোসংযোগ করেছেন আকাশের প্রতি। বস্তুতঃ তিনি তৈরী করেছেন সাত আসমান। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবহিত।” –সূরা বাকারা, আয়াত ২৮-২৯।

পীরভক্তির শিরকের বিষয়ে কোরানের সতর্ক বানী- “অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে। তারা কি নির্ভীক হয়ে গেছে এ বিষয়ে যে, আল্লাহর আযাবের কোন বিপদ তাদেরকে আবৃত করে ফেলবে অথবা তাদের কাছে হঠাৎ কেয়ামত এসে যাবে, অথচ তারা টেরও পাবে না? ” –সূরা ইউসুফ, আয়াত ১০৬-১০৭।

আরো সতর্ক করা হয়েছে- “আল্লাহ্ তাঁর সাথে অংশীদারিত্বকে ক্ষমা করেন না। এছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে খুশী তিনি ক্ষমা করে দেন; আল্লাহর সাথে শরীক উদ্ভাবন করা এক জঘন্য পাপ।” –সূরা নিসা, আয়াত ৪৮।

আলোচ্য আয়াতসমূহ দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তথাকথিত উল্লিখিত পীর তার বিভিন্ন উক্তির মাধ্যমে শুধু নিজের ভণ্ডামীই প্রকাশ করেনি; বরং তার ঈমানের ব্যাপারেও মানুষকে সন্দেহে ফেলে দিয়েছে।

মাজার ব্যবসায় সবচেয়ে বড় পীর ছিলেন আটরশির কেবলা হুজুর। আটরশির মাজারই সবচেয়ে বড় আয়াতনের মাজার।

ধর্মব্যবসায়ীদের সম্পর্কে আল্লাহ মুমিনদেরকে বলেছেন- “হে বিশ্বাসীগণ, ধর্মযাজক ও সন্ন্যাসীদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা অন্যায়ভাবে অন্যের ধন সাগ্রহে ভোগ করে থাকে এবং লোকদের আল্লাহর পথ থেকে নিবৃত্ত করে থাকে। এবং যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জিভূত রাখে এবং আল্লাহর রাস্তায় তা ব্যয় করে না, তাদেরকে মহাশাস্তির ঘোষণা দাও। সেদিন জাহান্নামের আগুনে উহাকে [সম্পদকে] উত্তপ্ত করা হবে এবং উহা দ্বারা তাদের ললাটে, পার্শ্বদেশে ও পৃষ্ঠদেশে দাগ দেয়া হবে। এই সেই [সম্পদ] যা তোমরা তোমাদের জন্য পুঞ্জিভূত করে রেখেছিলে। সুতরাং যা [সম্পদ] তোমরা পুঞ্ছিভূত রেখেছিলে তার স্বাদ গ্রহণ কর।” –সূরা তওবা, আয়াত ৩৪-৩৫।

jjআটরশির উরসের সময় অত্যাধুনিক গাড়ির দীর্ঘ সারি থেকে অর্থ বোঝাই ব্রিফকেস নিয়ে পালা করে রাখা হয় একটি রুমে ।

বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় স্পিনিং মিলের মালিক আটরশিরপীর সাহেব। আটরশির পীরের এত ধনী হওয়ার পেছনে আয়ের উৎস কী? মুরিদদের দান খয়রাত ছাড়া আর কিছু না। তার সম্পর্কে যা জানি, তিনিও চরম ভোগবাদী জীবনযাপন করতেন।

অর্থ-সম্পদ পুঞ্জিভূতকারীদের বিষয়ে আল্লাহ বলেন- “পার্থিব সম্পদ বৃদ্ধির প্রতিযোগীতা তোমাদের অন্যমনষ্ক করে রাখে। কিন্তু না, শীঘ্রই তোমরা [বাস্তবতা] জানতে পারবে। আবার বলি, তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে। না, তোমাদের যদি নিশ্চিত জ্ঞান থাকতো; তবে তোমরা [সাবধান] হতে। তোমরা অবশ্যই দোযখের আগুন দেখবে। আবার বলি, তোমরা উহা নিশ্চিত দৃষ্টিতে দেখতে পাবে। অতঃপর, সেদিন তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে সেই সব আনন্দ সর্ম্পকে।” –সূরা তাকাসুর।

কোরানে আরো সতর্ক করা হয়েছে- “যে সম্পদের পাহাড় গড়ে এবং নিয়মিত তা গুণে রাখে; ধারণা করে যে, তার ঐশ্বর্য্য তাকে অমর করবে। না কখনও না ! অবশ্যই সে হুতামায় নিক্ষিপ্ত হবে। তুমি কি জান হুতামা কি? আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত আগুন, যা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছবে। নিশ্চয় উহা তাদের চারিদিকে বেষ্টন করে থাকবে, দীর্ঘায়িত স্তম্ভ সমূহে।” –সূরা হুমাযা।

এত বিত্তশালী ধর্ম ব্যবসায়ীর ধর্ম ব্যবসা সরকারের নজরে কি আসেনা? এসব ধর্মীয় ভণ্ডামীর অবসান চাই। এদেশের নির্বোধ ধর্মান্ধ মানুষকে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

অথচ ভয়াবহ এইসব পীরের দোয়া নিতে সরকার দলীয়, বিরোধী দলীয় ব্যক্তিবর্গসহ অনেক খ্যাতনামা ব্যাক্তিত্বগণও হুমড়ি খেয়ে পড়েন তার কদমে, পরকালে নাজাতের আশায়।

মতামত

প্রতিদিনের সর্বশেষ সংবাদ পেতে

আপনার ই-মেইল দিন

Delivered by FeedBurner

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০১৭
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০