[X]
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, মঙ্গলবার

যুগের দাজ্জাল ভণ্ড দেওয়ানবাগী (ভিডিও)

print

d মোঃ আল মামুন শেখ : যুগের দাজ্জাল ভণ্ড দেওয়ানবাগী ইসলাম ও মানবজাতির ভয়ংকর শত্রু। দেওয়ানবাগীর গুরু ও শ্বশুর চন্দ্রপাড়ার মৃত আবুল ফজলের সংস্পর্শে আসার পর থেকেই তার অপকর্মের শুরু। তার গুরু মৃত আবুল ফজল এর ফর্মুলায় যাত্রা শুরু করলেও অল্পসময়েই গুরুকে ছাড়িয়ে যায়। প্রথমদিকে সে ময়মনসিংহের ত্রিশাল, নারায়ণগঞ্জসহ একাধিক স্থান থেকে গণপিটুনি, অপমানিত ও লাঞ্ছিত হয়ে পালিয়ে ঢাকায় এসে অবশেষে আরামবাগে ডেরা গাড়ে। তার আস্তানা তৈরিতে সাহায্যকারীদের মধ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী নাজমা মেটালের মালিক (পরবর্তীতে বড় মেয়ের শ্বশুর) অগ্রণী ভূমিকা রাখে। প্রথমদিকে দেওয়ানবাগী মুরিদ তৈরিতে চটকদার সব কথাবার্তা বলত। পরবর্তীতে সে তার কামালিয়াত প্রকাশের জন্য নানান ধরনের স্থুল, আজগুবি ও বানোয়াট কথাবার্তা বলা শুরু করে। আর সরলমতি, ধর্মান্ধ ও অশিক্ষিত মানুষের সঠিক জ্ঞান না থাকায় সহজেই দেওয়ানবাগীর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যথাসর্বস্ব বিলানোর প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে যায়।

দেওয়ানবাগী ইসলামকে অস্বীকার করে নিজের মতবাদে নতুন ধর্মের অবতারণা করে নাম দেয় মোহাম্মদী ইসলাম। এর আবরণে সে আল্লাহতা’য়ালা ও রসুল (সা:) সম্পর্কে ঘৃণ্য অপমানজনক বক্তব্য প্রচার করতে থাকে। দেওয়ানবাগীর ভণ্ডামীর নমুনা হিসাবে এই ভণ্ডের নিজের হাতে লিখিত তার খানকা কর্তৃক প্রকাশিত বিভিন্ন বই ও প্রকাশনা থেকে কিছু ভণ্ডামী এখানে তুলে ধরা হল–

* “একদিন ফজরের পর মোরাকাবারত অবস্থায় আমার তন্দ্রা এসে যায়। আমি তখন নিজেকে লুঙ্গি-গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় রওজা শরীফের নিকট দেখতে পাই। দেখি রওজা শরীফের উপর শুকনা পাতা এবং আগাছা জমে প্রায় এক ফুট পুরু হয়ে আছে। আমি আরো লক্ষ্য করলাম, রওজা শরীফে শায়িত মহামানবের মাথা মোবারক পূর্ব দিকে এবং মুখমণ্ডল দণি দিকে ফিরানো। এ অবস্থা দেখে আমি আফসোস করতে লাগলাম। এমন সময় পাতার নীচ থেকে উঠে এসে এ মহামানব বসলেন। তার বুক পর্যন্ত পাতার উপর বের হয়ে পড়ে। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, আপনি দয়া করে আমার রওজা পরিষ্কার করে দেবেন? আমি বললাম, জী, দেব। তিনি বললেন, তাহলে দিন না। এভাবে বারবার তিনবার বলায় আমি এক একটা করে পাতা পরিষ্কার করে দেই। এরপর আমার তন্দ্রা ভেঙে যায়।” [সূত্র: রাসূল কি সত্যিই গরিব ছিলেন-দেওয়ানবাগ থেকে প্রকাশিত]

* “দেওয়ানবাগী এবং তার মুরীদদের মাহফিলে স্বয়ং আল্লাহ্, সমস্ত নবী, রাসূল (সা), ফেরেস্তা, দেওয়ানবাগী ও তার মুর্শিদ চন্দ্রপাড়ার মৃত আবুল ফজলসহ সমস্ত ওলি আওলিয়া, এক বিশাল ময়দানে সমবেত হয়ে সর্বসম্মতিক্রমে দেওয়ানবাগীকে মোহাম্মাদী ইসলামের প্রচারক নির্বাচিত করা হয়।

অত:পর আল্লাহ সবাইকে নিয়ে এক মিছিল বের করে। মোহাম্মাদী ইসলামের চারটি পতাকা চারজনের, যথাক্রমে আল্লাহ, রাসূল (সা:), দেওয়ানবাগী এবং তার পীরের হাতে ছিল। আল্লাহ, দেওয়ানবাগী ও তার পীর প্রথম সারিতে ছিলেন। বাকিরা সবাই পিছনের সারিতে। আল্লাহ নিজেই স্লোগান দিয়েছিলেন- ”মোহাম্মাদী ইসলামের আলো, ঘরে ঘরে জ্বালো।”
[সূত্র: সাপ্তাহিক দেওয়ানবাগী পত্রিকা- ১২/০৩/৯৯]

* “অন্তর্দৃষ্টি খোলা এক আশেক দেখতে ছিলেন এই অনুষ্ঠান রাহমাতুল্লিল আলামীন তাশরীফ নিয়েছেন। এবং রাব্বুল আলামীন দয়া করে তাশরীফ নিয়েছেন। রাব্বুল আলামীন এসে একটা নির্দেশ করেছেন যে, এ বিশ্ব আশেকে রাসূল সম্মেলনে যত আশেকে রাসূল অংশগ্রহণ করেছেন রাব্বুল আলামীন ফেরেস্তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন সমস্ত আশেকে রাসূলদের তালিকা তৈরী করতে। এই তালিকা অনুযায়ী তারা বেহেস্তে চলে যাবে। এটা কি আমাদের জন্য বুলন্দ নসীব নয় কি ? যারা গত বিশ্ব আশেকে রাসূল সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের জন্য কি এটা চরম পাওয়া নয় ?”
[সুত্র: মাসিক আত্মার বাণী, নভেম্বর : ১৯৯৯]

* দেওয়ানবাগীর একজন খাদেম (নাম মাওলানা আহমাদুল্লাহ যুক্তিবাদী) এক আশেকে রাসুল সম্মেলনে বলেন- “আমি স্বপ্নে দেখলাম হযরত ইব্রাহীম (আ) নির্মিত মক্কার কাবা ঘর এবং স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা:) বাবে রহমতে হাজির হয়েছেন। আমাকে উদ্দেশ্য করে নবী করীম (সা) বলছেন ”তুমি যে ধারণা করছ যে, শাহ্ দেওয়ানবাগী হজ্জ করেননি আসলে এটা ভুল। আমি স্বয়ং আল্লাহর নবী মোহাম্মাদ (সা:) তার সাথে আছি এবং সর্বক্ষণ থাকি। আর কাবা ঘরও তার সামনে উপস্থিত আছে। আমার মোহাম্মাদী ইসলাম শাহ্ দেওয়ানবাগী প্রচার করতেছেন।”

দেওয়ানবাগীর কিছু আকিদা ও উক্তি সমূহ–

* “আমার অসংখ্য মুরিদান স্বপ্ন ও কাশফের মাধ্যমে আল্লাহর দীদার লাভ করেছে। আমার স্ত্রী হামিদা বেগম ও আমার কন্যা তাহমিনা এ খোদা স্বপ্নের মাধ্যমে আল্লাহকে দাড়ী গোফ বিহীন যুবকের ন্যায় দেখতে পায়।” –সুত্র: আল্লাহ কোন পথে:২৩

* সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন “শুধু আমি নই, আমার স্ত্রী কন্যাসহ লক্ষ্য লক্ষ্য মুরিদানও আল্লাহকে দেখেছেন” –সুত্র: সাপ্তাহিক দেওয়ানবাগ।

* “দেওয়ানবাগে আল্লাহ ও সমস্ত নবী রাসূল, ফেরেস্তারা মিছিল করে এবং আল্লাহ নিজে শ্লোগান দেন।” –সুত্র: সাপ্তাহিক দেওয়ানবাগ, মার্চ ১৯৯৯ ইং।

* “আমি এক ভিন্নধর্মের লোককে ওজীফা ও আমল বাতলে দিলাম। ক’দিন পর ঐ বিধর্মী স্বপ্নযোগে মদিনায় গেল। নবিজীর হাতে হাত মিলালো। নিজের সর্বাঙ্গে জিকির অনুভব করতে লাগলো। তারপর থেকে ওই বিধর্মী প্রত্যেক কাজেই অন্তরে আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে থাকে।” –সুত্র: মানতের নির্দেশিকা:২৩, সূফী ফাউন্ডেশন, ১৪৭ আরামবাগ, ঢাকা।

* “কোন লোক যখন নফসীর মাকামে গিয়ে পৌঁছে, তখন তাঁর আর কোন ইবাদাত লাগেনা।” –আল্লাহ কোন পথে,পৃ: ৯০

* “জিব্রাইল বলতে আর কেও নন, স্বয়ং আল্লাহ-ই জিব্রাইল।” –সুত্র: মাসিক আত্মার বাণী, ৫ম বর্ষ, ১ম সঙ্খ্যা:২১

* “সূর্যোদয় পর্যন্ত সাহরী খাওয়ার সময়। সুভে সাদেক অর্থ প্রভাতকাল। হুজুরেরা ঘুমানোর জন্য তারাতারি আযান দিয়ে দেয়। আপনি কিন্তু খাওয়া বন্ধ করবেন না। আযান দিয়েছে নামাজের জন্য। খাবার বন্ধের জন্য আযান দেয়া হয়না।” –সুত্র: মাসিক আত্মার বাণী, সংখ্যা: নভেম্বর ৯৯, পৃ: ৯

* “মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হায়াতে জিন্দেগীকে পুলসিরাত বলা হয়।” –সুত্র: আল্লাহ কোন পথে, তৃতীয় সংস্করন ৬০

* “আল্লাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে আত্মা এক বিচ্ছেদ যাতনা ভোগ করতে থাকে। প্রভূর পরিচয় নিজের মাঝে না পাওয়া অবস্থায় মৃত্যু হলে সে বেঈমান হয়ে কবরে যাবে। তখন তাঁর আত্মা এমন এক অবস্থায় আটকে পড়ে যে, পুনরায় আল্লাহর সাথে মিলনের পথ খুঁজে পায়না। আর তা আত্মার জন্য কঠিন যন্ত্রনাদায়ক। আত্মার এরূপ চিরস্থায়ী যন্ত্রনাদায়ক অবস্থাকেই জাহান্নাম বা দোযোখ বলা হয়।” –আল্লাহ কোন পথে: ৪৪

দেওয়ানবাগী নিজেকে ইমাম মাহদী দাবী করেন। অতঃপর দরুদে মাহদী রচনা করেন।

ময়লার স্তূপে অর্ধমৃত ও বিবস্ত্র অবস্থায় রাসুল (সা:) কে দেখেছি–

দেওয়ানবাগী ১৯৮৯ সালে নাকি একটি ব্যতিক্রমধর্মী স্বপ্ন দেখে ফেলেন। এ স্বপ্ন সম্পর্কে তিনি বলেন– “আমি দেখি ঢাকা ও ফরিদপুরের মধ্যবর্তী স্থান জুড়ে এক বিশাল বাগান ফুলে-ফলে সুশোভিত। ওই বাগানে আমি একা একা হেটে বেড়াচ্ছি। হঠাত বাগানের এক স্থানে একটি ময়লার স্তূপ আমার চোখে পড়ে। আমি দেখতে পাই ওই ময়লার স্তূপে রাসুল (সা:) এর প্রানহীন দেহ মোবারক পড়ে আছে। তাঁর মাথা মোবারক দক্ষিন দিকে আর পা মোবারক উত্তর দিকে প্রসারিত। বাম পা মোবারক হাটুতে ভাজ হয়ে খারা অবস্থায় রয়েছে। আমি তাকে উদ্ধার করার জন্য পেরেশান হয়ে গেলাম। আমি এগিয়ে গিয়ে তাঁর বাম পায়ের হাটুতে আমার ডান হাত দ্বারা স্পর্শ করলাম। সাথে সাথেই তাঁর দেহ মোবারকে প্রাণ ফিরে এল। তিনি চোখ মেলে আমার দিকে তাকালেন। মূহুর্তের মধ্যেই রাসূল (সা:) সুন্দর পোশাকে সুসজ্জিত হয়ে গেলেন। তিনি উঠে বসে হাসি মুখে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, হে ধর্ম পূনর্জীবন দানকারী! ইতমধ্যেই আমার ধর্ম আরও পাঁচবার পূনর্জীবন লাভ করেছে। একথা বলে রাসূল(সা:) উঠে দাঁড়িয়ে হেটে হেটে আমার সাথে চলে এলেন। এরপর আমার ঘুম ভেঙে গেল।” –সুত্র: দেওয়ানবাগীর স্বরচিত গ্রন্থ “রাসূল স. সত্যিই কি গরীব ছিলেন?” ১১-১২ প্রকাশকাল, জুন ১৯৯৯।

দেওয়ানবাগীর বেতনভুক্ত কর্মচারীদের বক্তব্য–

* দেওয়ানবাগীর এক বেতনভুক্ত অনুচর ১৩ এপ্রিল, ২০১২-র সাপ্তাহিক মাহফিলে বয়ান করে যে, “লক্ষ লক্ষ মুরীদ দেওয়ানবাগীর কদমে আল্লাহ তা’আলাকে পায়।” (নাউজুবিল্লাহ)”

* দেওয়ানবাগী সুলাইমান (আঃ)-র দরবারের জ্বীন কর্তৃক রাণী ‘বিলকিসের’ সিংহাসন নিয়ে আসার ক্ষমতা প্রসঙ্গে বলে যে, এটা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র ত্বরীকার কারণে।’

এরকম অসংখ্য, উদ্ভট ও বানোয়াট ঘটনা মূর্খ দেওয়ানবাগী ও তার বেতনভুক্ত কর্মচারীরা অনবরত বলতে থাকে। অশুদ্ধ উচ্চারণে আরবী আয়াত পাঠ করে এবং সূরা ফাতেহাই পুরো পড়তে পারে না, ভুল হয়ে যায়। দেওয়ানবাগী বারে বারে তার মূর্খতার প্রমাণ দিচ্ছে। এহেন মূর্খ দেওয়ানবাগী কুরআন বিকৃত করে মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মান্ধ মানুষদের বশে আনে। সে আল্লাহ তা’আলা, রসুল (সা:) ফেরেশ্তা ও আখিরাত সম্পর্কে এমন সব দাবি করে প্রকাশ্যে ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে।

দেওয়ানবাগী নিজেকে খোদা বলে দাবী করেছেন। মজার বিষয় হচ্ছে তিনি দাবী করছেন যে, রাসূল (সা) এর কন্যা হযরত ফাতেমা (রা)তার বর্তমান স্ত্রী। অবাক কাণ্ড তিনি তার ভক্তদের এ বিষয়ে নছিহত করছেন। তিনি বলেন, রাসূলের কন্যা ফাতেমা তার স্ত্রী হওয়ার জন্য পুনর্জন্ম নিয়েছেন। তিনি আরশে বসে আছেন। আরশে তিনি বসে আছেন তার ভক্তদের জান্নাতে নেওয়ার জন্য।

ddভণ্ড দেওয়ানবাগী সম্পর্কে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফতোয়া–

ক. দেওয়ানবাগের পীর নিতান্তই গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট।

খ. ধর্মীয় দীক্ষা গ্রহন করাতো দূরের কথা, এর সাহায্য সহযোগিতা করা, সান্নিধ্যে উঠা-বসা কিংবা তাঁর সাথে কোন রকম সংশ্রব রাখা হারাম।

গ. আর তাঁর অপপ্রচার প্রতিহত করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।
(১৭৬৭ ইসঃফাঃ সং ও দাওয়াহ/৩/৮৭/৫১২২ তাং ৫/৯/৯১ ইং। )

দেওয়ানবাগীর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ইসলাম যা বলে–

দেওয়ানবাগী, তার স্ত্রী, কন্যা ও অসংখ্য মুরিদ আল্লাহ্ তা’আলাকে দেখেছে। এ ধরনের বিভ্রান্তি সম্পর্কে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন- “তারা আল্লাহকে যথার্থরূপে বুঝেনি”।  –সূর আন আম, আয়াত ৯১।
অপর এক আয়াতে দেওয়ানবাগীর এই বানোয়াট কথা সম্পর্কে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন- “দৃষ্টিসমূহ (মানুষের) তাকে (আল্লাহ্) আয়ত্ত্ব করতে পারে না” (অর্থাৎ- আল্লাহ্ তা’আলাকে দেখতে পারে না।) এবং “তিনি (আল্লাহ্) দৃষ্টিসমূহকে আয়ত্ত্ব করতে পারেন”। আর তিনি সূক্ষ্মদর্শী ও সর্বান্তর্যামী।” –আন আম, আয়াত ১০৩।

দেওয়ানবাগী কত বড় প্রতারক, আল্লাহ তা’আলার এ কথাতেই প্রমাণ হয়েছে।

আবু যার (রাঃ) বলেন, আমি রসুল (সাঃ)কে জিজ্ঞেস করলাম-আপনি কি আপনার রবকে দেখেছিলেন? তদুত্তরে তিনি (সাঃ) বলেন- তিনি তো নূর, তাকে কি করে দেখতে পারি? (মুসলিম) অপর এক বর্ণনায় এসেছে, তিনি (সাঃ) বলেন, “আমি নূর দেখেছি।” (মুসলিম) “আর নূর হচ্ছে- ‘আল্লাহর পর্দা”। (মুসলিম)

হযরত আয়িশা (রাঃ) বলেন- যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁর রবকে দেখেছেন, সে যেন আল্লাহর উপর সবচেয়ে বড় মিথ্যা আরোপ করল। -(সহীহ মুসলিম)। এ সম্পর্কে কুরআনের বহু আয়াত ও সহীহ হাদিস রয়েছে।

এক আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেন- “কোন মানুষের জন্য এমন হওয়ার নয় যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন কিন্তু ওহীর মাধ্যমে কিংবা পর্দার অন্তরাল থেকে অথবা তিনি কোন দূত প্রেরণ করবেন। অতঃপর আল্লাহ যা চান, সে তা তাঁরই অনুমতিক্রমে পৌছে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বোচ্চ প্রজ্ঞাময়।” –সূরা শূরা, আয়াত ৫১। এখানে আল্লাহ্ তা’আলা বলে দিয়েছেন, তার সাথে সরাসরি কথা বলাই অসম্ভব।

মুসা (আঃ) আল্লাহ্ তা’আলার দীদার দুনিয়াতে কামনা করলে আল্লাহ্ তা’আলা তা স্পষ্ট ভাষায় নাকচ করে দেন। কেননা, দুনিয়াতে আল্লাহ্ তা’আলার দীদার অসম্ভব। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা বলেন- “আর মুসা যখন আমার নির্ধারিত স্থানে হাজির হলেন এবং তার সাথে তার রব কথা বললেন। তখন তিনি (মুসা) বললেন- হে আমার রব! তোমার দীদার আমাকে দাও! যেন আমি তোমাকে দেখতে পাই। তিনি (আল্লাহ) বললেন : তুমি আমাকে কস্মিনকালেও দেখতে পাবে না! তবে তুমি পাহাড়ের দিকে দেখতে থাকো, যদি সেটি স্ব-স্থানে স্থির থাকে, তাহলে তুমি আমাকে দেখতে পাবে। অতঃপর যখন তার রব পাহাড়ের উপর আপন জ্যোতির বিকিরণ ঘটালেন, সেটিকে বিধ্বস্ত করে দিলেন এবং মুসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন। অতঃপর তার জ্ঞান ফিরে এলে, বললেন : “(হে আল্লাহ!) তুমি পবিত্র, সুমহান। তোমার দরবারে আমি তওবা করছি এবং আমিই সর্বপ্রথম মুমিন।” –সূরা আ-রাফ, আয়াত ১৪৩।

একমাত্র আখিরাতেই আল্লাহ তা’আলাকে দেখা সম্ভব, শর্ত হলো মুমিন হতে হবে। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “সেদিন (ক্বিয়ামতে) অনেক মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে। তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে।” –সূরা ক্বিয়ামাহ, আয়াত ২২-২৩।

দেওয়ানবাগীর কি পরিমাণ ধৃষ্টতা যে, যেখানে আল্লাহ তা’আলা স্বয়ং ঘোষণা দিয়েছেন, দুনিয়াতে তাঁকে (আল্লাহ) দেখা অসম্ভব, সেখানে ভণ্ড দেওয়ানবাগী কিভাবে আল্লাহ তা’আলার কথাকে মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টা করে বলে যে, আমি আল্লাহকে দেখেছি।

আসলে ইসলামকে বহুধাবিভক্ত করার পেছনে এবং এই সমস্ত প্রতারকদের প্রতিষ্ঠিত করার মূল কারণ হলো তথাকথিত সুফীবাদ বা পীরগিরি।

এবিষয়ে আল্লাহ বলেছেন, যারা আমার আয়াতসমূহের সত্যকে বিকৃত করে, তারা আমার অগোচরে থাকে না। শ্রেষ্ঠ কে ? – যাকে আগুনে নিক্ষিপ্ত করা হবে সে, না যে শেষ বিচারের দিনে নিরাপদে থাকবে ? তোমাদের যা খুশী কর। তোমারা যা কর তিনি অবশ্যই তা দেখছেন। –সূরা হা-মীম, আয়াত ৪০।

এত কুকর্মের পরেও বিনা বাধায় তাঁর কাজ সে করে চলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোন রকম বাধার সম্মুখীন না হওয়ায় দিন দিন তাঁর অপশক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসলাম ধর্ম প্রতিনিয়ত এদের হাতে কি পরিমাণ ধর্ষিত হচ্ছে, অথচ ধর্মবাদী ও ধর্মব্যবসায়ীদের মুখে ‘টু’ শব্দটিও নাই।

দেওয়ানবাগী অর্থ আয়ের নানা উৎস তৈরি করেছে। যেমন, সে ভ্যাট-ট্যাক্সবিহীন হোটেল খুলেছে। সেখানে খেতে হলে টিকেট লাগে। আর টিকেট সংগ্রহ করতে ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট দিলে তাকে আর অবশিষ্ট টাকা ফেরত দেয়া হয় না। সহজ থেকে সহজ পন্থায় সে অর্থ আয় করছে। কমলাপুরে জায়গা দখল করে সে উটের খামার করেছে। সেখানে তারই মুরিদদের কাছে উচ্চমূল্যে উটের দুধ ও পেশাব বিক্রি করে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে। সেই উঠের দুধ আর মুত নির্বোধরা উটের দুধ আর মুত’কে শরবতে তহুরা (বেহেস্তী শরবত) মনে করে প্রতিদিন পান করছে। এভাবেই দেওয়ানবাগী প্রচুর অর্থ-বিত্তের ও ব্যাপক ক্ষমতার মালিক বনে যায়।

প্রশাসন, রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও সাংবাদিক অনেকেই তার অনুচর হয়ে যায় মাসোহারা পেয়ে। আর এ কারণেই দেওয়ানবাগী তার অপকর্মের বিস্তার ঘটাতে থাকে। বিভিন্ন বেসরকারি চ্যানেলে মুরিদ হওয়ার দাওয়াত সম্বলিত নিয়মিত বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয়।

ধর্মব্যবসায়ীদের সম্পর্কে মুমিনদেরকে আল্লাহ বলেছেন- হে বিশ্বাসীগণ, ধর্মযাজক ও সন্ন্যাসীদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা অন্যায়ভাবে অন্যের ধন সাগ্রহে ভোগ করে থাকে এবং লোকদের আল্লাহর পথ থেকে নিবৃত্ত করে থাকে। এবং যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জিভূত রাখে এবং আল্লাহর রাস্তায় তা ব্যয় করে না, তাদেরকে মহাশাস্তির ঘোষণা দাও। সেদিন জাহান্নামের আগুনে উহাকে [সম্পদকে] উত্তপ্ত করা হবে এবং উহা দ্বারা তাদের ললাটে, পার্শ্বদেশে ও পৃষ্ঠদেশে দাগ দেয়া হবে। “এই সেই [সম্পদ] যা তোমরা তোমাদের জন্য পুঞ্জিভূত করে রেখেছিলে। সুতরাং যা [সম্পদ] তোমরা পুঞ্ছিভূত রেখেছিলে তার স্বাদ গ্রহণ কর।” –সূরা তওবা, আয়াত ৩৪-৩৫।

এত বিত্তশালী ধর্ম ব্যবসায়ীর কোটি কোটি টাকার সন্ধান কি ‘দুদক’ পায় না? সরকারের নজরে কি আসেনা? এসব ধর্মীয় ভণ্ডামীর অবসান চাই। এদেশের নির্বোধ ধর্মান্ধ মানুষকে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

যুগের দাজ্জাল ভয়াভয় যালিম এই দেওয়ানবাগীর দোয়া নিতে সরকার দলীয়, বিরোধী দলীয় ব্যক্তিবর্গসহ অনেক খ্যাতনামা ব্যাক্তিত্বগণও হুমড়ি খেয়ে পড়েন তার কদমে, পরকালে নাজাতের আশায়।

অথচ পবিত্র কোরানে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, কেউ কারো পাপের ভার বহন করবে না; কারো পাপের বোঝা গুরুভার হলে সে যদি অন্যকে তা বহন করতে আহবান করে কেউ তা বহন করবে না – নিকট আত্মীয় হলেও। তুমি তো শুধু তাদেরকেই সর্তক করতে পার যারা তাদের প্রভুকে না দেখেই ভয় করে, এবং নিয়মিত নামাজকে প্রতিষ্ঠা করে। যে কেউ নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, সে তো তা করে নিজের আত্মার কল্যাণের জন্য এবং [সকলেরই শেষ] গন্তব্যস্থল হচ্ছে আল্লাহ। –সূরা ফাতির, আয়াত ১৮।

এই দেওয়ানবাগী ঈদে মিলাদুন্নবীর জন্য সরকারী ছুটি ঘোষনার মূল উদ্যোক্তা। দেওয়ানবাগী নিজেকে খোদা দাবী করাসহ নিজের রূপ এবং খোদার রূপকে একই বলে চরম সীমালংঘন করে দিব্যি এই দেশের মাটিতে বহাল তাবিয়তে ঘোরা ফেরা করছে। অথচ সরকার ও প্রশাসন রহস্যজনক কারণে নিরব ভূমিকা পালন করছে।

মতামত

প্রতিদিনের সর্বশেষ সংবাদ পেতে

আপনার ই-মেইল দিন

Delivered by FeedBurner

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০১৭
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০